প্রধান শিক্ষক নেই, ভারপ্রাপ্তই দেখালেন চমক

হারুন অর রশিদ, হোমনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

হোমনা প্রতিনিধি: কুমিল্লার হোমনা উপজেলার তিতাস নদীঘেঁষা ঘাগুটিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত দড়িচর উচ্চ বিদ্যালয়। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে অল্প সময়েই শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। সর্বশেষ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও বিদ্যালয়টি অর্জন করেছে ঈর্ষণীয় সাফল্য।

এ বছর দড়িচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৩ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ২২ জন পাস করেছে। ফলে বিদ্যালয়ের পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা হোমনা উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে দড়িচর উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী। পরে হোমনা উপজেলার সাবেক ইউএনও আলী আসগরের তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পরপরই করোনা মহামারির কারণে প্রায় দুই বছর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

এরপরও থেমে থাকেনি বিদ্যালয়টির অগ্রযাত্রা। ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী পাসের পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থী গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করে। ২০২৪ সালেও শতভাগ পাসের সাফল্য ধরে রাখে প্রতিষ্ঠানটি। আর ২০২৫ সালে পাঁচজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ এবং একজন গোল্ডেন জিপিএ-৫সহ শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়।

সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফলাফলেও ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ পাসের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি হোমনা উপজেলার সেরা ফলাফল অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। ধারাবাহিক এই সাফল্যের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়টি উপজেলার শিক্ষাক্ষেত্রে একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

বর্তমানে বিদ্যালয়টির দুইজন মেধাবী শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ মোট ১১ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। শুরুতে প্রধান শিক্ষক থাকলেও বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

হোমনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যরা। তারা এ অর্জনের জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুল আলম বলেন, “এ বছর বিদ্যালয় যে অভূতপূর্ব ফলাফল অর্জন করেছে, তার জন্য বিদ্যালয়ের সভাপতি ও পরিচালনা পরিষদের সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। তাঁদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা বিদ্যালয়ের এ সাফল্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “দড়িচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা উপজেলার মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক এবং ভবিষ্যতের পরীক্ষার্থীসহ সকলকে অনুপ্রাণিত করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এ সাফল্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, সম্মানিত শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যসহ সকলের সম্মিলিত প্রয়াস ও আন্তরিকতার প্রতিফলন। সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।”

পাঠকের মন্তব্য