দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং: ফাইজ তাইয়েব

চলমান গ্যাস–সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফাইজ তাইয়েব আহমেদ।

বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে। এর পরিমাণ প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার কিলোওয়াট ঘণ্টা। ২০২২ সালের পর একক দিনে এটি সর্বোচ্চ লোডশেডিং বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে তার পোস্টে ব্যবহৃত পরিসংখ্যানের ইউনিট ও হিসাবের পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

ফাইজ তাইয়েব আহমেদ আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় চলমান লোডশেডিং প্রায় ২২ গুণ বেশি। গত সাত দিনের গড় হিসাবের ভিত্তিতে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
তার পোস্টে বলা হয়, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে আসিফ শাহরিয়ার ষুশ্মিত এ হিসাব করেছেন।
এদিকে পিডিবি ও পিজিসিবির তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরেই দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত রোববার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সোমবার তা বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে ওঠে। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং বুধবার ছিল ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।

গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় জ্বালানি না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশে গ্যাসের চাহিদা ছিল প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এর বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে ২০৩ কোটি ঘনফুট।
সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ওই টার্মিনাল থেকে সরবরাহ ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন আরও কমেছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি জানান।

দেশজুড়ে ধারাবাহিক লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ ও প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে। বিদ্যুৎ–সংকটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে গ্রামাঞ্চলে। অনেক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ–বিভ্রাটকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গ্রিড, উপকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ কার্যালয়গুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়ে বুধবার পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। একই সঙ্গে গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ কার্যালয় থেকেও পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে পৃথকভাবে নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য