মুসলিম বন্ধুর জানাজায় হিন্দু বন্ধু, চোখের জলে শেষ বিদায়
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ১৩ অগাস্ট, ২০২৬
জানাজার কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে তিনিও ছিলেন। তবে অন্য সবার চেয়ে আলাদা করে চোখে পড়ছিলেন প্রদীপ সরকার। সনাতন ধর্মাবলম্বী এই মানুষটি এসেছিলেন প্রিয় বন্ধু কামাল হোসেন বাবুলকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে। চোখে তখন জল, মুখে কোনো কথা নেই। শুধু নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন বন্ধুর জানাজার কাতারে।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দোয়াটি গ্রামের প্রদীপ সরকারের সঙ্গে একই উপজেলার দহুলিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বাবুলের বন্ধুত্ব বহুদিনের। ধর্ম আলাদা হলেও তাদের সম্পর্কের মধ্যে সেই ভিন্নতার কোনো ছাপ ছিল না। জীবনের নানা সময়ে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন তারা। একসঙ্গে হেসেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, বিপদে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
কিন্তু বুধবার রাতে সেই বন্ধুত্বের গল্পে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। অসুস্থতাজনিত কারণে রাত ১১টার দিকে মারা যান কামাল হোসেন বাবুল। বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।
বন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিজেকে সামলে রাখতে পারেননি প্রদীপ সরকার। বৃহস্পতিবার বাবুলের জানাজায় হাজির হন তিনি। জানাজার মাঠে তখন স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ভিড়। কিন্তু ভিড়ের মধ্যেও প্রদীপ সরকারের অশ্রুসিক্ত চোখ যেন আলাদা এক গল্প বলছিল।
প্রিয় বন্ধুর নিথর দেহের দিকে তাকিয়ে কখনো নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কখনো চোখের পানি মুছছিলেন প্রদীপ। বাবুলের জানাজায় প্রদীপ সরকারের উপস্থিতি তাই শুধু একজন বন্ধুর শেষ বিদায়ে আসা নয়, হয়ে উঠেছে সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনের এক আবেগঘন দৃশ্য।