প্রাকৃতিক ঘটনা আর জলবায়ু পরিবর্তনকে এক করে দেখবেন না: ড. আইনুন নিশাত

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর) এর উপদেষ্টা ও এমেরিটাস প্রফেসর ড. আইনুন নিশাত বলেছেন, প্রাকৃতিক আবহাওয়ার ঘটনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে এক করে দেখা ঠিক নয়। শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬ স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক একটি কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের সনদ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট অ্যাকশন: এ গ্লোবাল সাউথ পারস্পেকটিভ শীর্ষক এই কোর্সটি যৌথভাবে আয়োজন করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ধারা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এর গতি আরও বাড়তে পারে। তবে সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তথ্য হালনাগাদ এবং উন্নত পূর্বাভাস ব্যবস্থার মাধ্যমে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সুযোগ এখনও রয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর ড. শরীফ নাফে আস্-সাবের। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করতে হবে। তিনি শুধু বাজেট সংকটের কথা বলে থেমে না থেকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।

সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি উপকূলীয় অঞ্চলে পানির সংকট ও লবণাক্ততার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব সমস্যার প্রভাব নারীদের ওপর বেশি পড়ে। বিশেষ করে পানি সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ পথ চলার সময় নারীরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই কোর্সের মাধ্যমে জ্ঞান বিনিময় ও গবেষণার ভিত্তিতে দেশীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যকর সমাধান বেরিয়ে আসবে।

সিথ্রিইআর এর পরিচালক ড. মো. গোলাম রব্বানী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় পড়বে। তিনি জানান, ২০৫০ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো প্রতি বছর তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত হারাতে পারে। আন্তঃসরকার জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের (আইপিসিসি) তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রায় ৪ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে। এর প্রায় অর্ধেকই বাংলাদেশের হতে পারে।

১০ সপ্তাহব্যাপী এই আন্তর্জাতিক কোর্সের লক্ষ্য ছিল পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ জলবায়ু নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা। কোর্সে জলবায়ু কার্যক্রমের নীতি ও সুশাসন সম্পর্কিত বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কোর্সটি পরিচালনা করেন ১৫ জন জাতীয় এবং ১৩ জন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ।

যৌথভাবে এই কোর্সটি আয়োজন করে সিথ্রিইআর, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর অ্যাটমোসফেরিক পলিউশন স্টাডিজ। এতে সহযোগিতা করেছে ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির বিংক্স ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবিলিটি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির এশিয়া হাব, নানজিং অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটি এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার ড. ওকসানা তারাসোভা, বিংক্স ইনস্টিটিউট ফর সাসটেইনেবিলিটির ডিরেক্টর ড. নন্দন মুখার্জি, এশিয়া হাবের ডিরেক্টর ড. জিয়াগুও কি, এশিয়া হাবের ক্যারিয়ার ইনিশিয়েটিভস অ্যান্ড রিজিওনাল লিয়াজোঁ ফর এশিয়ার পরিচালক ডি ওয়াং এবং নানজিং অ্যাগ্রিকালচারাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. লিউ ইউতাও।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম নজরুল ইসলাম, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের পরিবেশ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের হেড প্রফেসর ড. মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস- চ্যান্সেলর (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ আল-আমিন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও উইং প্রধান (জাতিসংঘ) এ কে এম সোহেল এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিথ্রিইআর এর অ্যাসিসটেন্ট ডিরেক্টর শারমিন নাহার নীপা।

পাঠকের মন্তব্য