অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি, বিএসইসির তদন্তের মুখে আইপিডিসি ফাইন্যান্স
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ২৩ জুন, ২০২৬
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ বিষয়ে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, আইপিডিসির শেয়ারের সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির কারণ জানতে গত ১৫ মে কোম্পানিটিকে চিঠি পাঠানো হয়। জবাবে কোম্পানিটি জানায়, তাদের কাছে এমন কোনো অপ্রকাশিত বা মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই, যার কারণে শেয়ারের দাম বাড়তে পারে। এর পরই শেয়ারটির লেনদেনে কোনো ধরনের কারসাজি হয়েছে কি না, তা নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। একই সঙ্গে কমিশনের সার্ভিল্যান্স বিভাগ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ২ জুন আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম ছিল ১৮ টাকা ৯০ পয়সা। মাত্র ১২ কার্যদিবসের ব্যবধানে ১৮ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ টাকা ৬০ পয়সায়। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারটির দর বেড়েছে ১০ টাকা ৭০ পয়সা বা ৫৬ দশমিক ৬১ শতাংশ। তবে রোববার (২১ জুন) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে শেয়ারটির দামে কিছুটা সংশোধন দেখা যায়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের দ্রুত ও অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির পেছনে কোম্পানিটির কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য বা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক অগ্রগতির খবর না থাকায় কারসাজির সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, তদন্তে দেখা হবে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না, এবং সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না।
এ ছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ভূমিকা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনসহ অন্য কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধি (এআর), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।
আইপিডিসি ফাইন্যান্স ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। ‘এ’ ক্যাটাগরির এ কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৪২৯ কোটি ৫৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৪২ কোটি ৯৫ লাখ ৮৪ হাজার ৮৫১টি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, উদ্যোক্তাদের হাতে ৪০ শতাংশ, সরকারের হাতে ২১ দশমিক ৮৮ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ১৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।