টঙ্গীতে ভিভো ফোন বিস্ফোরণ, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল পরিবার

এবার টঙ্গীর একটি আবাসিক এলাকায় রবিবার (২১ জুন) ভিভো ব্র্যান্ডের একটি স্মার্টফোন বিস্ফোরিত হয়েছে। ভিভো মোবাইল বিস্ফোরণ হওয়ার ঘটনায় ওই পরিবারে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় অসুস্থ অবস্থায় ঘরের মেঝেতে শুয়ে ছিলেন বাড়ির এক গৃহবধূ। হঠাৎ তিনি অনুভব করেন, তার ব্যবহৃত vivo Y20 মডেলের ফোনটি অস্বাভাবিক ভাবে গরম হয়ে যাচ্ছে। তাৎক্ষণিক বিষয়টি তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের জানান।

পরিবারের এক সদস্য বলেন, ফোনটি হাতে নেয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ফোনটি থেকে প্রচণ্ড ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দ্রুত ফোনটি বারান্দায় ফেলে দেই। বারান্দায় নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফোনটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনার সময় ফোনটি থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, ফোনটি যদি ঘরের ভেতরে বা বিছানায় রাখা থাকত, তবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো। বিশেষ করে বাড়িতে থাকা ছোট শিশুরা নিয়মিত এই মোবাইল ফোনে গেমস ও ভিডিও দেখায় অভ্যস্ত, যা নিয়ে এখন চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে অভিভাবকরা।

উল্লেখ্য, সাভারের আশুলিয়ায় মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে গত (১৪ জুন) রবিবার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক জনের মৃত্যু হয়। মৃত মিজানুর রহমান (৪৪) ফেনীর ছাগলনাইয়া থানার লাঙলমোড়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিনি আশুলিয়ার রশিদ মার্কেট এলাকায় থাকতেন ও স্টক লটের ব্যবসা করতেন।

মিজানুরের প্রতিবেশী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘মিজানুর কক্ষে একা থাকতেন। শনিবার রাত ১২টার দিকে মিজানুরের কক্ষে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। এতে ঘরের ভেতরে আগুন ধরে যায়। তার মোবাইল ফোন ও চার্জার পোড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরে মিজানুরকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।’

জাতীয় বার্ন ও বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মিজানুরকে ভর্তি করা হয়। তার শরীরের ৯৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল।  

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম গণমাধ্যকে বলেন, মিজানুর রহমান দুটি মোবাইল ফোন চার্জে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ মোবাইল ফোন বিস্ফোরিত হলে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

পাঠকের মন্তব্য