অনিয়মে লাল তালিকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, সংকটে উচ্চশিক্ষা

দেশের বেসরকারি উচ্চশিক্ষা খাতে অনিয়ম, প্রশাসনিক জটিলতা, আইনি বিরোধ ও মানদণ্ড লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে এক, দুই ও তিন তারকার পর্যবেক্ষণ তালিকা প্রকাশ করেছে। ভর্তি মৌসুমে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে নিয়মিত এ তালিকা হালনাগাদ করা হয়। একই সঙ্গে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রাখার নির্দেশনাও বহাল রয়েছে। এসব কারণে সামগ্রিম বিবেচনায় দেশের উচ্চশিক্ষার অবস্থা বেহাল।

ইউজিসির সূত্র অনুযায়ী তথ্যমতে, ছয় ধরনের অনিয়মের কারণে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়কে লাল তালিকা বা বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। এগুলো হলো: কমিশনের অনুমোদন ছাড়া প্রোগ্রাম বা কোর্স পরিচালনা, অনুমোদনবিহীন ভবন বা ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, ট্রাস্টি বোর্ডের মালিকানা-সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা, অনুমোদিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি, রাষ্ট্রপতি ও আচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য বা কোষাধ্যক্ষের পদ ছয় মাসের বেশি সময় শূন্য থাকা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরীক্ষিত (অডিট) প্রতিবেদন ইউজিসিতে জমা না দেওয়া।

এক তারকার পর্যবেক্ষণ তালিকায় রয়েছে ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এবং দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটি অনুমোদন ছাড়া ভবন বা ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এক তারকা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে, দি পিপল’স ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত কোষাধ্যক্ষ নেই। পাশাপাশি প্রো-উপাচার্যের পদও শূন্য। ইউজিসির মতে, এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় সুশাসন ও কার্যকর প্রশাসনে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

দুই তারকার তালিকায় রয়েছে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং কুইন্স ইউনিভার্সিটি। ইউজিসি জানায়, কুইন্স ইউনিভার্সিটি ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ৬ সেপ্টেম্বর শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন পেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

অন্যদিকে, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে ভর্তি নিয়ে সতর্কতা জারি করে ইউজিসি। সাময়িক অনুমতির মেয়াদ শেষ হওয়া, রাষ্ট্রপতি ও আচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ না থাকা, নির্ধারিত অডিট সম্পন্ন না হওয়া এবং ট্রাস্টি বোর্ড-সংক্রান্ত জটিলতা ও মামলা চলমান থাকায় এ সতর্কতা দেওয়া হয়।

তবে গত ২ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. আমানউল্লাহ এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মেজর জেনারেল সাহেদুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির তালিকা হালনাগাদের পর এ নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতেও নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রয়েছে।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ তিন তারকার তালিকায় রয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইবাইস ইউনিভার্সিটি, দ্য ইউনিভার্সিটি অব কুমিল্লা এবং আমেরিকা বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ট্রাস্টি বোর্ডের মালিকানা নিয়ে মামলা, অনুমোদিত আসনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি এবং আইন অনুযায়ী স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে ব্যর্থ হয়েও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।

ইবাইস ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে বর্তমানে ইউজিসি অনুমোদিত কোনো ক্যাম্পাস বা ঠিকানা নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য