ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটিতে প্রশাসক, বিলুপ্ত ট্রাস্টি বোর্ড

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দিয়ে আট শর্তে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস গঠন করেছে সরকার। রোববার (৫ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলামকে নতুন বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনসে চেয়ারম্যান হিসেবে রাখা হয়েছে।

সেখানে আরও তিনজনকে সেখানে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। তারা হলেন- ঢাবি ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুন এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সেন্টার ফর হায়ার স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ সেন্টারের সাবেক ডিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনজুরুল আলম। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (যদি থাকেন) পদাধিকারবলে তিনিও সদস্য হিসেবে থাকবেন।

ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মরতুজা জানান, প্রজ্ঞাপনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছি। তবে মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাকে কোনো কিছু জানানো হয়নি কিংবা কোনো চিঠিও পাঠানো হয়নি। যেহেতু সোশ্যাল মিডিয়ায় বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস-এর বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন দেখেছি, তাই আমরাও খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

৮ শর্তে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস

প্রজ্ঞাপনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৮টি শর্তে বেঁধে দিয়ে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস গঠন করেছে। এরমধ্যে রয়েছে-

১) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেজবাহ্-উল-ইসলামকে সাময়িকভাবে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনসের সভাপতি এবং অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুন এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মনজুরুল আলমকে সদস্য হিসেবে ১ বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হলো। তবে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এ নিয়োগ যেকোন সময় বাতিল করতে পারবেন;

২) বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাথে পরামর্শক্রমে একটি নিয়মিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠনপূর্বক তা অনুমোদনের জন্য কমিশন মারফত রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর এর নিকট প্রেরণ করবেন এবং রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর পুনর্গঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজ অনুমোদন করা মাত্র বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে;

৩) অনিবার্য কারণবশত: বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস ১ বছর সময়ের মধ্যে বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠন করতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস এর মেয়াদ অনধিক ৬ মাস বৃদ্ধি করতে পারবেন;

৪) বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস-এর সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যরা কমিশন প্রণীত নীতিমালা/নির্দেশনা ও ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর বিধিমালা অনুযায়ী বৈঠক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্ত হবেন;

৫) বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবে;

৬) বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর চেয়ারম্যান অথবা তাঁর মনোনীত একজন সদস্য কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে প্রতি তিন মাসে ন্যূনপক্ষে একটি সভা করবে;

৭) রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর এর নিকট উপস্থাপনের জন্য বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস-এর প্রতি ৩ মাসে তাদের কাজের অগ্রগতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন কমিশন বরাবর প্রেরণ করবেন;

৮) রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োজিত উপাচার্য (যদি থাকেন) পদাধিকারবলে বোর্ড অব এডমিনিস্ট্রেশনস-এর সদস্য হবেন।

পাঠকের মন্তব্য