জলবায়ু সহনশীল ভাসমান বেড কৃষিতে প্রশিক্ষণ পেলেন ২৫ কর্মকর্তা
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ১২ অক্টোবর, ২০২৬
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি:
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বন্যা ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে জলবায়ু সহনশীল ভাসমান বেড কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৫ কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২০ জন এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাঁচজন কর্মকর্তা রয়েছেন।
ভবিষ্যতে কৃষক ও যুবসমাজের মধ্যে এ কৃষিপদ্ধতি ছড়িয়ে দিতে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের ম্যানুয়ালটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর (ডিওয়াইডি) ও দ্য আর্থ সোসাইটির (টিইএস) যৌথ উদ্যোগে ১০ থেকে ১৩ অক্টোবর চার দিনব্যাপী ‘টেকসই ভাসমান বেড স্মার্ট কৃষিবিষয়ক প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ (টিওটি) অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে জলবায়ু কার্যক্রমে নারী ও যুবদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে পরিচালিত ‘গ্রিন ভয়েসেস: এমপাওয়ারিং উইমেন অ্যান্ড ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পটি ব্যবস্থাপনা করছে দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন।
প্রশিক্ষণের প্রথম তিন দিন শ্রেণিকক্ষভিত্তিক সেশন এবং শেষ দিন মাঠপর্যায়ে ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়। এতে ভাসমান বেড কৃষির ধারণা, কৌশল ও প্রয়োগের পাশাপাশি বন্যা, জলাবদ্ধতা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত ঝুঁকিপ্রবণ এলাকায় কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
১২ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য আর্থ সোসাইটির চেয়ারম্যান এ কে এম মুজাহিদ উদ্দিন, সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও কো-চেয়ার শাকিলা সাত্তার তৃণা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) হুমায়ুন কবির, প্রশিক্ষণের প্রধান ফ্যাসিলিটেটর অধ্যাপক আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ এবং কো-ফ্যাসিলিটেটর বিবেকানন্দ হীরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যবহারিক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা জরুরি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এ পদ্ধতির ব্যবহারিক জ্ঞান স্থানীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।
দ্য আর্থ সোসাইটির প্রকল্প সমন্বয়ক সোহানা রেজা উর্মি বলেন, এ উদ্যোগ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি সম্ভব হলে ভবিষ্যতে অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যেই আরও বিস্তৃত পরিসরে এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা যাবে।
সোহানা রেজা উর্মি আরও বলেন, অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন ও জলবায়ু কার্যক্রমকে শক্তিশালী করতে বৃহত্তর অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে দ্য আর্থ সোসাইটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা নিজ নিজ কর্মএলাকায় ছড়িয়ে দিতে কর্মকর্তাদের প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে কৃষক, যুবসমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে টেকসই ভাসমান বেড কৃষির কৌশল ও ব্যবহারিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন ঝুঁকির মুখে থাকা এলাকাগুলোতে এ পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে।
যুব উন্নয়ন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের একই প্রশিক্ষণে যুক্ত করার ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালটির প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি, নিয়মিত প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং মাঠপর্যায়ে অর্জিত দক্ষতার কার্যকর প্রয়োগের ওপর।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রশিক্ষণটিকে নিয়মিত সরকারি কর্মসূচির আওতায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। এতে জলবায়ু সহনশীল কৃষিপদ্ধতির বিস্তার, সরকারি কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোজন কার্যক্রম জোরদারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।