ক্যাম্পেইনের বাইরেও সাশ্রয়: কেনাকাটার অভ্যাসে পরিবর্তন আনছে ‘এভরিডে লো প্রাইস’

রমজানের মাত্র তৃতীয় দিন। এর মধ্যেই সাদিয়া বুঝতে পারলেন, পবিত্র এই মাসে ঘরের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চাহিদা কতটা দ্রুত বেড়ে যায়

রমজানের ঠিক আগে কেনা সয়াবিন তেল অর্ধেক হয়ে এসেছে, ডিশওয়াশিং লিকুইড শেষ হওয়ার পথে। ইফতারের জন্য মেহমান আসার কারণে ঘরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, লন্ড্রি আর রান্নাবান্নার চাপ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলস্বরূপ, দরকার হচ্ছে বারবার বাজার করার

ঢাকার অধিকাংশ কর্মজীবী দম্পতির মতো সাদিয়া ও তার স্বামীরও দিনের বড় একটা সময় অফিসে কাটে। বড় কোনো কেনাকাটার জন্য তারা সাধারণত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর বড় ক্যাম্পেইন বা বিশেষ ছাড়ের দিনের অপেক্ষায় থাকেন। ইলেকট্রনিক্স, ঘর সাজানোর সরঞ্জাম কিংবা নতুন পোশাকের ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনা কাজ করলেও সাদিয়ার উপলব্ধি হলো- নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রয়োজন কোনো বিশেষ ক্যালেন্ডার মেনে আসে না

সাদিয়া বলেন, “বিলাসবহুল কেনাকাটার জন্য আমরা বড় ছাড়ের দিনের অপেক্ষা করতে পারি। কিন্তু তেল বা ডিটারজেন্ট সপ্তাহের মাঝপথে শেষ হয়ে গেলে তা তো আর ফেলে রাখা যায় না।”

ঠিক এই জায়গাতেই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে অনলাইন কেনাকাটা মানেই ছিল বড় কোনো উৎসব বা বিশেষ দিনের ‘মেগা ক্যাম্পেইন’, যেখানে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশাল ছাড় দেওয়া হতো। এখনো বড় কেনাকাটার জন্য এই ধরনের ক্যাম্পেইনগুলো অত্যন্ত কার্যকর

তবে ঘরের দৈনন্দিন খরচের হিসাবটা ভিন্ন। গ্রোসারি, ব্যক্তিগত পরিচর্যা কিংবা ঘর পরিষ্কার করার পণ্যগুলো সারা বছর নিয়মিত কিনতে হয়। মাস শেষে যোগ করলে দেখা যায়, এই ছোট ছোট কেনাকাটার মোট খরচ মাঝেসাঝে কেনা বড় কোনো গ্যাজেটের চেয়েও অনেক বেশি

এই চাহিদাকে মাথায় রেখে দারাজ তাদের ‘চয়েস’ চ্যানেলকে নতুনভাবে সাজিয়েছে ‘এভরিডে লো প্রাইস’ (ইডিএলপি) মডেলে। এখানে ছাড়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন বা ফ্ল্যাশ সেলের অপেক্ষা করতে হয় না। বরং সারা মাস এবং সারা বছর জুড়েই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলোর দাম একটি সাশ্রয়ী ও স্থিতিশীল পর্যায়ে রাখা হয়

এই পদ্ধতি মেগা ক্যাম্পেইনের আকর্ষণকে কমিয়ে দেয় না, বরং তাকে পূর্ণতা দেয়। বড় ক্যাম্পেইনগুলো যখন বড় কেনাকাটার সুযোগ করে দিচ্ছে, তখন ‘এভরিডে লো প্রাইস’ মডেল নিশ্চিত করছে যেন সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য কোনো বিশেষ অফারের অপেক্ষায় না থাকে

সাদিয়ার মতো ক্রেতাদের জন্য এই দ্বিস্তরবিশিষ্ট কেনাকাটার কৌশল বেশ সুবিধাজনক। এতে ক্যাম্পেইনগুলো হয়ে ওঠে বড় আপগ্রেডের সুযোগ, আর দৈনন্দিন বাজার হয়ে ওঠে নিরবচ্ছিন্ন। কোনো কাউন্টডাউন টাইমার কিংবা হুট করে দাম বাড়া-কমার চিন্তা ছাড়াই এখন ঘরের বাজার করা সম্ভব

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে যেকোনো পরিবারের জন্য বাজেটের নিশ্চয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন প্রতিদিন পণ্যের দাম উঠানামা করে, তখন মাসের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে স্থিতিশীল দাম ক্রেতাকে দেয় মানসিক প্রশান্তি ও খরচের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ

দারাজের এই মডেলে ক্রেতাদের জন্য রাখা হয়েছে বাড়তি কিছু সুবিধাও। যেমন- একসাথে ৩টি পণ্য কিনলে থাকছে ফ্রি ডেলিভারি। আবার ৫টি বা তার বেশি পণ্য কিনলে পাওয়া যাচ্ছে বিশেষ উপহার সাথে ফ্রি ডেলিভারি। এছাড়া নির্দিষ্ট অংকের কেনাকাটা করলে রয়েছে অতিরিক্ত ভাউচার ব্যবহারের সুযোগ। এর ফলে ক্রেতারা বিচ্ছিন্নভাবে অল্প অল্প কেনাকাটা না করে একসাথে পুরো সপ্তাহের বাজার করতে উৎসাহিত হচ্ছেন, যা একদিকে ডেলিভারি খরচ কমায়, অন্যদিকে সাশ্রয়ও বাড়ায়

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দ্রুত ডেলিভারির নিশ্চয়তা। এই মডেলের অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি পণ্য সরাসরি দারাজের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো হয়। ফলে ডেলিভারি হয় দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পণ্য হাতে পাওয়াটা দামের মতোই গুরুত্বপূর্ণ

আসলে রমজান এই চাহিদাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। বাড়তি রান্না ও মেহমানদারির কারণে খরচের গতি বেড়ে যায়। তবে রমজান শেষ হলেও সস্তায় মানসম্মত পণ্যের প্রয়োজনীয়তা শেষ হয় না

বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজার যত পরিপক্ব হচ্ছে, প্ল্যাটফর্মগুলো ততই ক্রেতাদের অভ্যাসের সাথে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করছে। একদিকে রয়েছে মেগা ক্যাম্পেইনের উৎসবমুখর কেনাকাটা, অন্যদিকে ‘এভরিডে লো প্রাইস’ এর মাধ্যমে গড়ে উঠছে নিয়মিত কেনাকাটার নির্ভরতা

সাদিয়া এখন তার ঘরের কেনাকাটার জন্য একটি সাধারণ নিয়ম ঠিক করে নিয়েছেন। তার মতে, বড় কেনাকাটার জন্য বড় ক্যাম্পেইনই সেরা, কিন্তু রান্নাঘরের বাজারের জন্য এমন এক জায়গা চাই যেখানে দামের সাথে কোনো কাউন্টডাউন টাইমার ঝুলবে না

পবিত্র রমজান বা সারা বছরের পারিবারিক বাজেট নিয়ে যারা নতুনভাবে ভাবছেন, তাদের জন্য দারাজের এই ‘এভরিডে লো প্রাইস’ একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। দারাজ অ্যাপের ‘চয়েস’ সেকশনে গেলেই ক্রেতারা তাদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো এক জায়গায় সাশ্রয়ী দামে খুঁজে পাবেন

এখন আর পরবর্তী বড় কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার দরকার নেই। আগামী সপ্তাহের বাজারের তালিকা নিয়ে আজই দেখে নিতে পারেন প্রয়োজনীয় পণ্যগুলো। তিনটি বা তার বেশি পণ্যের বান্ডেল তৈরি করে ফ্রি ডেলিভারিসহ সাশ্রয় নিশ্চিত করা এখন স্রেফ কয়েক ক্লিকের ব্যাপার

 

পাঠকের মন্তব্য