চট্টগ্রাম বোর্ডের সব জেলায় বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ৮ জুলাই, ২০২৬
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব জেলায় আজ বুধবারের নির্ধারিত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার গভীর রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন সকল জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড (সকল জেলা) এবং চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আগামী বুধবারের এইচএসসি/আলিম/এইচএসসি (বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষা স্থগিত করা হলো।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্যান্য শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীন জেলা ব্যতীত) অন্যান্য জেলার পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে। স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।
এর আগে পৃথক দুই আদেশে চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজার জেলার বুধবারের পরীক্ষা স্থগিতের কথা জানিয়েছিল আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাঙামাটি ও কক্সবাজারেও টানা ভারী বৃষ্টিতে অনেক এলাকা তলিয়ে গেছে।
গত কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠেছে। কোথাও জমেছে হাঁটুপানি। টানা বর্ষণ হওয়ায় থৈ থৈ পানি অনেক জায়গায়। এর সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলীর জোয়ার একাকার হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তৈরি হয়েছে পাহাড় ধ্বসের শঙ্কাও। ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও ভূমিধসের আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, নিচু এলাকাগুলো কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর সমান পানিতে ডুবে গেছে। পানি ঢুকে পড়েছে বাসাবাড়ি দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। এতে দুর্ভোগের পাশাপাশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা। রাস্তায় পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গণপরিবহন চলাচল কমে গেছে সড়কে, ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও কম।
খাগড়াছড়িতে তিনদিন ধরে টানা বর্ষণে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক ও বাসা-বাড়িতে ঢুকছে পানি। কিছু কিছু সড়কে বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষরা। এছাড়া টানা বৃষ্টিতে বেড়েছে পাহাড় ধসের আশঙ্কা। ভারী বৃষ্টিতে মঙ্গলবার মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি ও কেরেঙ্গেনালা এলাকায় সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার লোকজন চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। সেচের নালার স্লুইসগেট বন্ধ থাকায় বৃষ্টির পানি সরতে পারেনি। ফলে খাগড়াছড়ি–রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরপানিতে সড়ক ডুবে গেছে।
অন্যদিকে টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার অন্তত ২৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়ি ও সড়কে পানি ওঠায় হাজারো মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, টেকনাফ পৌরসভা এবং সদর, সাবরাং, হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের অন্তত ৮০০ পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে। একই সঙ্গে লেদা, জাদিমুড়া ও আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের প্রায় ৭০০টি আশ্রয়ঘরও প্লাবিত হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এদিকে রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, ঈদগাঁও ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকাও পানিতে তলিয়ে গেছে। কক্সবাজার পৌরসভার হোটেল-মোটেল জোন, কলাতলী, সুগন্ধা, বাজারঘাটা, কালুর দোকান, তারাবনিয়াছড়া, বাস টার্মিনাল ও বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
বান্দরবানে রোববার রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টি চলছে। এতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা বেড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে সাঙ্গু নদীর পানি ও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় থানচির তিন্দু, রেমাক্রী ও নাফাখুম, আমিয়াখুমসহ কয়েকটি পর্যটন এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি স্রোত স্বাভাবিক না হওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) পর্যন্ত পর্যটকদের ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই সময় পর্যন্ত সকল পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার রাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে নারী-শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে। রোববার দিবাগত রাত ১টার পর উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া কক্সবাজার শহর ও পেকুয়ায় আরও দুটি পাহাড় ধসে পড়ে।