মহীয়সী নারী মনোয়ারা খানমের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ১০ নম্বর কামালবাজার ইউনিয়নের ধরগাঁও গ্রামের বিশিষ্ট সমাজসেবী, দানশীল ও শিক্ষানুরাগী মহীয়সী নারী মরহুমা মিসেস মনোয়ারা খানমের ৯ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ উপলক্ষে তাঁর গ্রামের বাড়িতে পবিত্র কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল, দোয়া এবং শিরনি বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য, স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে অংশ নেবেন।

পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর ভাষ্য, মনোয়ারা খানম ছিলেন ধর্মপ্রাণ, মানবিক ও পরোপকারী একজন নারী। জীবদ্দশায় তিনি অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে সেবামূলক কাজ করেছেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্ব। তাঁর আন্তরিকতা, উদারতা ও মানবসেবার নানা স্মৃতি আজও মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয়।

মরহুমা মনোয়ারা খানমের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর বড় ছেলে মোহাম্মদ মুহিদুর রহমান প্রবাসী পল্লী গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং দৈনিক দেশবার্তা ও দৈনিক নতুন সময়-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি। মেজো ছেলে এমদাদুর রহমান বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ছোট ছেলে হাবিবুর রহমান হাবিব দুই মেয়াদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর স্বামী ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা।

মরহুমার স্মৃতি অম্লান রাখতে ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্ট’ সিলেট অঞ্চলে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। তাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত মনোয়ারা-গনি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, গনি-মনোয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আয়শা-মনোয়ারা মহিলা দাখিল মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজও শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।

এম. এ. গনি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের সচিব এবং লালটেক হাজী হামিদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুক আহমেদ বলেন, মনোয়ারা খানম ছিলেন একজন রত্নগর্ভা মা ও অনুকরণীয় সমাজসেবী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মানবিক মূল্যবোধ ও শিক্ষা বিস্তারের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবাইকে তাঁর জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।

এম. এ. গনি ও মিসেস মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্টের সচিব এবং লালটেক হাজী হামিদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুক আহমেদ বলেন, মহীয়সী নারী মনোয়ারা খানম ছিলেন একজন রত্নগর্ভা মা, মানবিক ও পরোপকারী ব্যক্তিত্ব। তাঁর সন্তানরা আজ দেশ ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে তাঁর আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন। জীবদ্দশায় তিনি এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের নির্ভরতার প্রতীক ছিলেন। এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে কখনো খালি হাতে ফিরে যাননি। তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত ‘মনোয়ারা খানম শিক্ষা ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে আজও অসংখ্য মেধাবী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী শিক্ষা সহায়তা পাচ্ছে। আমরা মহান আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি, তিনি যেন মরহুমাকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেন এবং তাঁর পরিবারকে ধৈর্য ও কল্যাণে পরিপূর্ণ রাখেন।

পাঠকের মন্তব্য