অপ্রতিম হত্যায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
কুমিল্লার ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের কাজ হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মরদেহ উদ্ধার এবং পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আচরণ ও কর্মকাণ্ড অনেকটা কিশোর অপরাধী চক্রের মতো। তাদের বয়স নিহত অপ্রতিমের চেয়ে পাঁচ থেকে ১০ বছর বেশি।
রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর পরবর্তী ১২ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে নিহত কিশোরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামতের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে।
গ্রেপ্তারদের বয়স প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর। দুজনের বয়স ১৮ বছরের বেশি এবং একজনের বয়স ১৮ বছরের কম হতে পারে। তবে সবার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বয়সসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের তৎপরতার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধারের কাজ হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো এ মামলার বিচারও সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ করার জন্য বিচার বিভাগকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিটি জঘন্য অপরাধ দ্রুততম সময়ে উদ্ঘাটন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। যেসব ঘটনা তদন্তসাপেক্ষ, সেগুলোর অগ্রগতি তদন্ত শেষ হওয়ার পর জানা যাবে।
সামাজিক অবক্ষয়কে অপরাধের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের পেছনে অনেক ক্ষেত্রে মাদক, জুয়া ও পর্নোগ্রাফির মতো অনুষঙ্গ রয়েছে। সামাজিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।