সিগারেট কোম্পানির কাছ থেকে বৃক্ষসহ কোনো ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ না করার আহ্বান
-
- - নিজস্ব -
- প্রতিবেদক --
- ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবেলায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সরকারের এ ধরনের কর্মসূচিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি (বিএটি)। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছে। এ সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি (বিএটি) বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছে গিয়ে বিনামূল্যে বৃক্ষ প্রদান করছে এবং এসব কার্যক্রমকে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (CSR) হিসেবে প্রচার করছে।
অথচ বাংলাদেশে বিদ্যমান আইন অনুসারে তামাক কোম্পানিগুলো কোনো ধরনের সিএসআর করতে এবং করাতে পারবে না। ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ এর ৫(৩) অনুসারে এটি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। উল্লেখ্য, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ৫ এর (৩) এ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে কোনো তামাক বা তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক ও প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না এবং কোনো বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে অথবা কোনো অনুষ্ঠান বা কর্মসূচির নামে কোনো প্রকার সহায়তা প্রদান করা যাবে না।
উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো কোম্পানি (বিএটি) আইনের বিষয়টিকে পুরোপুরি আড়াল করে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে গাছ লাগানোর ও নিজেদের নাম প্রচারের চেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, তারা উক্ত কর্মসূচিগুলোতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণকেও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে। যা সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রচেষ্টা, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এবং WHO এর Framework Convention on Tobacco Control (FCTC)-এর বিপরীত। প্রকৃতপক্ষে, ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদনকারী সিগারেট কোম্পানিগুলোর এ ধরনের কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা তাদের বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য আড়ালের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার পাশাপাশি তাদেরকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়।
সিগারেট কোম্পানির কাছ থেকে বৃক্ষ, আর্থিক সহায়তা বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ না করার জন্য বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) সারাদেশের সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অন্যান্য সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে সংগঠনগুলোকে তামাক কোম্পানির সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হচ্ছে।
পাশাপাশি, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যে, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলো যেন তামাক কোম্পানির কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ থেকে বিরত থাকে এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তামাক কোম্পানির এ ধরনের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান সম্পর্কে সচেতন করে। একই সঙ্গে জোট, সরকারের বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) মনে করে, পরিবেশ সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ কোনোভাবেই তামাক কোম্পানির প্রচার, ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়ন বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়।