ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ইএসজি সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় ব্যাচের সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ইএসজি প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্সের দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করা ২৪ জন অংশগ্রহণকারীর হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস (ইএসএস)। 

ইএসজি (এনভায়রনমেন্ট, সোশাল এবং গভর্ন্যান্স) হলো এমন একটি কাঠামো, যার মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং সুশাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়। বর্তমানে ব্যবসা পরিচালনা, বিনিয়োগ এবং করপোরেট সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইএসজির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশের শিল্পখাতেও ইএসজির গুরুত্ব দিন দিন বেড়ে চলছে। বিশেষ করে রপ্তানি, বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সুইসকন্ট্যাক্টের যৌথ উদ্যোগে কোর্সটি পরিচালিত হচ্ছে। ৬০ ঘন্টাব্যাপী এই কোর্সের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের পেশাজীবীরা টেকসই ব্যবসা, বিনিয়োগ, রিপোর্টিং এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের চেয়ারপারসন ড. ওয়াসিকুর রহমান খান। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাতের জন্য এখন ইএসজি ও টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত মানদণ্ডগুলো মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু শিল্পখাতই নয়, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও তাদের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইএসজি বিষয়গুলোকে ক্রমেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।  

তিনি আরও বলেন,  ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ইএসজি বিষয়ে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে কাজ করছে। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ইএসজি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সুইসকন্ট্যাক্টের প্রোগ্রেস প্রকল্পের টিম লিডার ফারজানা আমিন বলেন, বাংলাদেশে সবুজ ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থায় রূপান্তর একদিনে সম্ভব নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা। তিনি বলেন, “আমরা যে গ্রিন ট্রানজিশনের কথা বলি, সেটি সময়সাপেক্ষ। এর জন্য সরকার, শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব নয়।”  

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার (গভর্ন্যান্স, ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট) শিরিন সুলতানা। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদের দক্ষতা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এক্ষেত্রে আরও বড় ভূমিকা নিতে হবে।”  

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে। পৃথিবীটা বদলে গেছে। আগের মতো ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দেশ হিসেবে কীভাবে আরও টেকসই এবং স্বনির্ভর হওয়া যায়, সেটি এখন ভাবার সময়।” 

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ট্রেজারার আরিফুল ইসলাম বলেন, ইএসজি শুধু নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়। এটি একটি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করে তুলতে সাহায্য করে।  

তিনি বলেন, “সঠিক সিদ্ধান্ত, দক্ষতা বৃদ্ধি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের ভালো ব্যবহার, এসবই ইএসজির অংশ। আপনারা যারা এই কোর্স সম্পন্ন করেছেন, তারা কর্মক্ষেত্রে এই জ্ঞান কাজে লাগাবেন। এতে শুধু প্রতিষ্ঠানই উপকৃত হবে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি ভালো পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”  

অনুষ্ঠানে কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। তারা জানান, কোর্সটি তাদের পেশাগত জীবনে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে এবং ইএসজি বিষয়ে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ তৈরি করেছে।  

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ইএসএস এর প্রফেসর এবং ইএসজি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. শহিদুর রহমান। 

পাঠকের মন্তব্য