শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সিএসই ফেস্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ১৯ জুলাই, ২০২৬
‘আমাদের আর ঘুমিয়ে থাকলে চলবে না। এখনও সময় আছে জেগে ওঠার। বহির্বিশ্বের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রযুক্তিতে স্বনির্ভর হতে হবে। নিজেদের উদ্ভাবনের মাধ্যমে নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে।’- এমন অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন দেশের খ্যাতিমান কম্পিউটার বিজ্ঞানী এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিশিষ্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ। তিনি শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি (এসএমইউসিটি)-এ অনুষ্ঠিত ‘সিএসই ফেস্ট ২০২৬ (ভার্সন ৩.০)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি (এসএমইউসিটি)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি (সিএসআইটি) বিভাগের উদ্যোগে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয় বার্ষিক প্রযুক্তি উৎসব ‘সিএসই ফেস্ট ২০২৬ (ভার্সন ৩.০)’।
সকাল ৯টায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ প্রযুক্তি উৎসবের কার্যক্রম শুরু হয়। দেশের ৪৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৫০০-এরও বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উৎসবটি প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও জ্ঞানবিনিময়ের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।
সিএসই বিভাগের প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক এবং ফেস্টের আয়োজক কমিটির সভাপতি ফয়সাল ইমরানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক; বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শাহ-ই-আলম; ফ্যাকাল্টি অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস-এর ডিন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক; বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. পাড় মশিয়ূর রহমান; সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও চিফ রিস্ক অফিসার (সিআরও) মো. মাহবুব আলম; জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও প্রক্টর ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)-এর কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইআইসিটি)-এর পরিচালক ড. মো. রবিউল ইসলাম।
এবারের সিএসই ফেস্টে মোট ১০টি প্রতিযোগিতামূলক সেগমেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পর্যায়ের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল ক্যাপচার দ্য ফ্ল্যাগ (সিটিএফ), আইওটি ও রোবোটিক্স প্রজেক্ট শোকেস এবং সফটওয়্যার প্রজেক্ট শোকেস। কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে আয়োজন করা হয় আইডিয়া শোকেস কনটেস্ট।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠিত হয় প্রোগ্রামিং কনটেস্ট, ডেটা সায়েন্স ডেটাথন, রোবো সকার, লাইন ফলোয়ার রোবট (এলএফআর) এবং গেমিং টুর্নামেন্ট (ভ্যালোরেন্ট ও এফসি ২৬)। প্রতিটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার পরিচয় দেন।
বিকেল ৩টায় সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের সফল সমাপ্তি ঘটে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে এক লক্ষাধিক টাকার প্রাইজপুল থেকে পুরস্কার, মেডেল, ক্রেস্ট এবং সনদ বিতরণ করা হয়।
উৎসবের স্পন্সর ছিল পূবালী ব্যাংক পিএলসি এবং সাউথইস্ট ব্যাংক পিএলসি। উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশে শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, ‘সিএসই ফেস্ট’ শুধু একটি প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা নয়; এটি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণা, দলগত কাজ এবং বাস্তব সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান উপস্থাপনের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সংযোগ স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি করে।
বক্তারা আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তিবিদ গড়ে তুলতে শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং নেতৃত্ব বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।