আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস ও সিসিসিআই এর যৌথ উদ্যোগে সংলাপ অনুষ্ঠিত
-
- - নিউজ -
- ডেস্ক --
- ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) সম্প্রতি যৌথভাবে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট গ্রোথ ডায়ালগ: পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করেছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অবস্থিত সিসিসিআই কার্যালয়ে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। ডিএসই’র চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম এবং সিএসই’র চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার; আইডিএলসি ফাইন্যান্সের এমডি ও সিইও এম জামাল উদ্দিন; আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস-এর এমডি মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ; আইডিএলসি সিকিউরিটিজ-এর এমডি মোঃ মেজবাউল হক; সিসিসিআই-এর সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী; সিসিসিআই-এর সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এম এ ছালাম; সিএসই’র এমডি সাইফুর রহমান মজুমদার; বিএসআরএম’এর চেয়ারম্যান আলী হুসেইন আকবর আলী এবং অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ।
সংলাপে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, স্টক এক্সচেঞ্জ, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠন, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজারের বিভিন্ন অংশীজনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিদ্যমান সুযোগ, চ্যালেঞ্জ ও নিয়ন্ত্রক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। চট্টগ্রামের বড় ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী গ্রুপ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত হন।
সংলাপে আইপিও ও সরাসরি তালিকাভুক্তির (ডিরেক্ট লিস্টিং) ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠিত করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহ, মূলধন কাঠামো শক্তিশালী করা, ব্যাংক-নির্ভর অর্থায়নের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণে এ দুটি পদ্ধতিকে বিকল্প পথ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে মূল্যায়ন পদ্ধতি, তালিকাভুক্তির শর্ত ও সময়সীমায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং চলমান উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। সম্ভাব্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিরা নিয়ন্ত্রকদের কাছে সরাসরি নিজেদের নানা জিজ্ঞাসা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল নিয়ন্ত্রক কাঠামো সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা নেওয়ার সুযোগ পান।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, “বাংলাদেশে পুঁজিবাজারে কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তিতে দীর্ঘসূত্রীতার কারণে মানি মার্কেট বা অর্থলগ্নি খাত থেকে টাকা সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা। এজন্য পুঁজিবাজারে যেমন কাঙ্খিত গতিশীলতা আসে না, তেমনি ব্যবসার টেকসই প্রসার ঘটে না। পুঁজিবাজারে যাতে বড় বড় মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলো সহজে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে, সেজন্য সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলাপ আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে”।
তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশে গড় ট্রেডিং বর্তমানে মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের ০.১৪ শতাংশ। যদি গড় ট্রেডিং মাত্র ১৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়, তাহলে তা ০.৪০ শতাংশে উন্নীত হবে। যার অর্থ, মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশনের তুলনায় গড় ট্রেডিং বেশি। তাই মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বাড়াতে বড় বড় এবং মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে স্টক মার্কেটে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এজন্য সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন”।
সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, “তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠান লাভ না করলেও লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পুঁজিবাজারে আসতে চান না। তালিকাভুক্তির পর বিভিন্ন নিয়মের জটিলতায়ও পড়তে হয়। ব্যবসায় লাভ হলে লভ্যাংশ দেওয়া এবং লোকসান হলে না দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত। পুঁজিবাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। পুঁজিবাজারের সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংক সম্পৃক্ত। তাই আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রয়োজন।“
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহমুদ সাত্তার বলেন, “পুঁজিবাজারের মিউচ্যুয়াল ফান্ড মার্কেট এখনো শক্তিশালী নয়। আইপিও’র ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা বাধা। এজন্য এনবিআর’কে সাথে নিয়ে ট্যাক্স সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাতে পুজিবাজারের সাথে সাংঘর্ষিক না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে বিএসইসি’কে কাজ করতে হবে”।
আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম জামাল উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এখন প্রথাগত ব্যাংক অর্থায়নের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদী তহবিলের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে পুঁজিবাজারকে বিবেচনা করার সময় এসেছে। আরো উন্নত ও স্বচ্ছ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোম্পানিগুলো এখন অধিক আস্থার সাথে এই বাজারে প্রবেশ করতে পারবে এবং তাদের ব্যবসার ন্যায্য মান অর্জন করতে পারবে”।
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস’এর সিইও মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ বলেন, “আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসে আমরা পুঁজিবাজারে কোম্পানির নির্ভরযোগ্য প্রবেশ ও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ ও দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিতের লক্ষে সর্বোতভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছি। এই লক্ষ্যে আপনার প্রতিষ্ঠান পাবলিক মার্কেটে প্রবেশের জন্য কতটুকু প্রস্তুত, সম্ভাব্য কতটুকু মূলধন সংগ্রহ করা যেতে পারে, মালিকানার অংশীদারিত্ব বা শেয়ারের অনুপাত কতটা ডাইলিউট হতে পারে এবং কতটা নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখা সম্ভব, আপনার প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কোন ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি যৌক্তিক বা গ্রহণযোগ্য হবে, আইপিও, ডাইরেক্ট লিস্টিং নাকি অন্য কোনো অর্থায়নের পদ্ধতি – কোনটি আপনার জন্য অধিক উপযুক্ত হবে, এধরণের বিষয়গুলো পূর্ণ গোপনীয়তার সাথে মূল্যায়নে আমরা সহায়তা করতে পারি। এ জন্য আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস’এর সাথে আপনাদের কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক চুক্তির বাধ্যবাধকতাও নেই, আপনার ব্যবসার জন্য সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে সহায়তা করার লক্ষ্যে আমরা আপনাকে কোনো চুক্তি ছাড়াই বিভিন্ন বিকল্প যাচাই-বাছাইয়ে সহযোগিতা করব।”
সংলাপে অংশ নিয়ে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের বিভিন্ন উদ্বেগের বিষয়ে আলোচনা করেন। এর পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা প্রদান এবং তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার সম্ভাব্য দিকগুলো নিয়ে নিজেদের মত তুলে ধরেন।
এ সংলাপ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল পুঁজিবাজারে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এ জন্য তালিকাভুক্তির কৌশলগত ও আর্থিক সুবিধাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে পুঁজিবাজারের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামের সম্ভাব্য মানসম্পন্ন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ আরও জোরদার হবে এবং তাদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখবে।