ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট ও রূপালী ইনভেস্টমেন্টের উদ্যোগে ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেকহোল্ডারস মিট অনুষ্ঠিত

ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড যৌথভাবে সম্প্রতি ঢাকার দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট স্টেকহোল্ডারস মিট- আনলক পসিবিলিটিজ ইন দ্য নেক্সট চ্যাপ্টার অব প্রগ্রেস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে দেশের পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন, বিনিয়োগকারী এবং বাজারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনায় বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং দেশের প্রবৃদ্ধির আগামী অধ্যায়কে এগিয়ে নিতে পুঁজিবাজারের ভূমিকা গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে গৃহীত সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক উদ্যোগ ও বাস্তবমুখী সংস্কার নিয়েও আলোচনা করেন, যা দেশের পুঁজিবাজারের উন্নয়নে আরও সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ, রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম, রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল হাসান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন, ইউসিবির ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিম আলমগীর।    

বক্তারা বলেন, আগামী বছরগুলোতে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে বেসরকারি খাত ও শিল্পে বিনিয়োগ বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। এ প্রক্রিয়ায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং পুঁজিবাজার উৎপাদনশীল খাতে অর্থ সংগ্রহ ও প্রবাহিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এ প্রেক্ষাপটে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও কার্যকরভাবে সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাংকগুলোর মূলধনভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি।

ইউসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, ‘গত দুই বছরে আমরা ব্যাংকের তারল্য, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও আদায় কার্যক্রম এবং সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এর ফলে ব্যাংকটি এখন স্থিতিশীলতা থেকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের চলমান রাইট শেয়ার ইস্যু ব্যাংকের মূলধনভিত্তি আরও সুসংহত করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির সক্ষমতা বাড়াবে। এই যাত্রায় শেয়ারহোল্ডার ও পুঁজিবাজারের অংশীজনদের আস্থা ও অংশগ্রহণ ইউসিবির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাম্প্রতিক টার্নঅ্যারাউন্ড যাত্রা দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। শক্তিশালী নেতৃত্ব, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং সুস্পষ্ট কৌশলগত দিকনির্দেশনা এই অগ্রযাত্রার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইউসিবির এই অগ্রযাত্রায় রূপালী ব্যাংক ও রূপালী ইনভেস্টমেন্ট সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে এবং দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করে যাবে।’

অনুষ্ঠানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসির ডিরেক্টর মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, ’ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে ব্যাংকখাতকে ধ্বংস করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ খাত ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এক্ষেত্রে ইউসিবি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শেয়ার বিনিয়োগকারীদের জন্য ইউসিবি নির্ভরযোগ্য, এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তা প্রমাণ করেছে।’

আলোচনায় ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান মূলধনসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জও উঠে আসে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দেশের ব্যাংকিং খাতে সম্মিলিত মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৭৮ লাখ কোটি টাকা। অংশগ্রহণকারীরা এ সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা, ব্যাংকগুলোর মূলধন অবস্থান শক্তিশালী করা এবং ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বৃহত্তর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা দেওয়ার সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

এই প্রেক্ষাপটে, গত দুই বছরে ইউসিবির অভাবনীয় উন্নতি তুলে ধরা হয়। ইউসিবি কীভাবে তার অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করতে পারে, সে বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির রাইটস শেয়ার ইস্যুতে ইউসিবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড যৌথ ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে।

আয়োজকরা বলেন, বিনিয়োগকারী, ইস্যুয়ার, মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও মতবিনিময় বাজারে আস্থা জোরদার করার পাশাপাশি আরও গভীর, কার্যকর ও শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
 

পাঠকের মন্তব্য