মানহীন কেক বিক্রি কাজী ফার্মসের, ৮ লাখ টাকা জরিমানা

অনিরাপদ ও মানহীন মাফিন কেক বিক্রি করার কথা স্বীকার করায় কাজী ফার্মসকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। 

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক মাহমুদুল হক এ আদেশ দেন। মামলার বাদী ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) খিলগাঁও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রসিকিউটিং অফিসার ও খাদ্য এবং স্যানিটেশন কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএসসিসির তথ্য কর্মকর্তা জোবায়ের ইসলাম।   

এর আগে কাজী কাজী ফার্মসের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. কামরুল হাসান। পরবর্তীতে স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ঢাকার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের যুগ্ম জেলা দায়রা জজ মাহমুদুল হক মানহীন মাফিন কেক বানানোর কথা স্বীকার করায় কাজী ফার্মকে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
কামরুল হাসান জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে জরিমানা পরিশোধ করেছে কাজী ফার্মস কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে আর কখনো এমন মানহীন পণ্য না বানানোর বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। 

নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৬, ৪১, ৪২ ও ৫৮ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় বিবাদী করা হয় কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পরিচালক কাজী জাহিন শাহপার হাসানকে।

মামলার নথি অনুযায়ী, কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভ্যানিলা মাফিন কেক ও প্লেইন কেক (ইনস্ট্যান্ট) থেকে নমুনা সংগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে এই মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু ছিল পণ্যের মোড়ক বা লেবেলে প্রিজারভেটিভ সংক্রান্ত ঘোষণা ও মেয়াদকাল সংক্রান্ত তথ্যের কারিগরি অসঙ্গতি।

আদালতে দাখিল করা কাজি ফারমসের আবেদনে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে বলা হয়, লেবেলে প্রিজারভেটিভের তথ্য বাদ পড়াটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তা কোম্পানির উৎপাদন, মান-নিয়ন্ত্রণ ও মোড়কজাতকরণ বিভাগের কর্মীদের অসাবধানতার কারণে ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিগতভাবে ওই লেবেল মুদ্রণ, সংযোজন বা অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও দাবি করা হয়। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, পণ্যে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভ পটাসিয়াম সরবেট/সরবিক অ্যাসিড স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং তা চীনের জিয়াংবেই অ্যাডিটিভ কোম্পানি লিমিটেড থেকে আমদানি করা, যা বিএসটিআই অনুমোদিত ও খাবারে ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে দাবি করা হয়। এ সংক্রান্ত ল্যাবরেটরি রিপোর্ট ও বিএসটিআই সনদের কপি আদালতে জমা দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়, বিষয়টি অবগত হওয়ামাত্রই কাজী জাহিন শাহপার হাসানের নির্দেশে ও হস্তক্ষেপে কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত ভ্যানিলা মাফিন কেক ও প্লেইন কেক (ইনস্ট্যান্ট) ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বাজার থেকে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ভবিষ্যতে অনুরূপ কোনো অসঙ্গতি যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আইন কঠোরভাবে পরিপালনের অঙ্গীকার করেন।

পাঠকের মন্তব্য